বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সকলকে ক্ষুদ্র সংকীর্ণতাকে ভুলে একসাথে কাজ করতে হবে। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণ, বিশেষ করে তরুণ সমাজ, একটি ইতিবাচক গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির বর্ধিত সভায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন তিনি।
খালেদা জিয়া বলেন, “আজও ফ্যাসিস্টদের দোসররা এবং দেশের শত্রুরা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত লাভগুলো নস্যাৎ করার জন্য গভীর চক্রান্ত করছে। আমাদের ইস্পাত-কঠিন ঐক্যের মাধ্যমে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই চক্রান্তের মোকাবিলা করতে হবে।”
তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য আমাদের সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।”
বিএনপি চেয়ারপারসন আরও বলেন, “আসুন, আমরা আগামী দিনগুলোতে শহীদ জিয়ার স্বপ্নের আধুনিক, সমৃদ্ধ এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করি এবং এত ত্যাগের বিনিময়ে প্রাপ্ত এই অর্জনকে সুসংহত ও ঐক্যকে আরও বেগবান করি।”
তিনি যোগ করেন, “এখনো যুক্তরাজ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমি আপনাদের পাশেই আছি এবং আপনারা দীর্ঘ ১৫ বছর গণতন্ত্রের জন্য যে সংগ্রাম করেছেন তা জাতি চিরকাল স্মরণে রাখবে।”
খালেদা জিয়া সভায় অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বলেন, “আমরা একসাথে, পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্বের মাধ্যমে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থেই একটি বাসযোগ্য, উন্নত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে কাজ করব।”
ভাষণের শুরুতে তিনি দীর্ঘ ছয় বছর পর একত্রিত হওয়া বিএনপি নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, “যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি এবং যারা আহত হয়েছেন তাদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।”
তিনি আশা ব্যক্ত করে জানান, “বর্তমানে দেশের সংকটময় পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্র মেরামতের জন্য নূন্যতম সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করবে এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করবে।”