খুলনা জোনাল সেটেলম্যান্ট অফিসে যাঁচ কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ মৌজার সাধারণ ভূমি মালিকদের বিভিন্নভাবে হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে।
খুলনা সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার আব্দুর রশিদ ঐ অফিসের বড় বাবু সুজিত রায় এবং সার্ভেয়ার রসুল আযম এমন কার্যক্রম করছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ মৌজার কাজের দায়িত্ব থাকায় এই সুযোগে অফিসার আব্দুর রশিদ, সার্ভেয়ার রসুল আযম ও পিওন আব্দুর রহিম সুবিধা নিচ্ছে।
উল্লেখ্য, মুন্সিগঞ্জ মৌজার যাঁচ খুলনার জোলাল অফিসে থাকায় সাধারণ ভূমি মালিকগণ ১২০ কিঃমিঃ পথ অতিক্রম করে যায়। দূরের সাধারণ ভূমি মালিক হওয়ায় তাদেরকে ছোট ছোট চিরকুট দিয়ে অফিসে ডেকে ভূমিতে নানান সমস্যার অজুহাত দেখিয়ে হাজার হাজার টাকা ঘুষ দাবী করে চলেছে।
এই বিষয়ে সাধারণ ভূমি মালিকগণ অভিযোগ করে বলেন, অফিসার আব্দর রশিদের একান্ত ব্যক্তি আব্দুস সামাদের মাধ্যমে ঘুষের ব্যাপারটা কালেকশন হয়। বহিরাগত দালাল আব্দুস সামাদকে দিয়ে সাধারণ ভূমি মালিকদেরকে কাজের বিনিময়ে টাকার প্রস্তাব করে তারা।
মুন্সিগঞ্জ মৌজার আফসার আলী গাজীর পুত্র মাজেদ বলেন, গত সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ডাক হওয়ায় ২০৭ ডিপির খতিয়ানের হাল ৩০৫৭. ৩০৫৮ হাল দাগের বিভিন্ন সমস্যা দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা দাবী করে দালাল সামাদ।
ঐ মৌজার মহাদেব আউলিয়ার পুত্র বিমল চন্দ্র আউলিয়াকে গত ০৫.০২.২৫ তারিখে কাজ করিয়ে দেওয়ার প্রস্তাবে ৩০ হাজার দাবী করে পিওন আব্দুর রহিম। যাহার ডিপি খতিয়ান ২৩৪৭ হাল দাগ ২২৫৩।
একই মৌজার মালেক গাজীর পুত্র নুরুল ইসলাম অভিযোগ তুলে জানান, জমি থাকলে যে জ্বালা এরচেয়ে জমি না থাকাই আরো ভালো ছিল, এই যে খুলনায় এসে নানান তালবাহানা। শুধুই টাকার খেলা। এই দূরে এসে কিছু বলতে পারি না, শুধু মুখ বুজে ব্যথা সহ্য করতে হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সামাদের মাধ্যমে সন্ধ্যার পর ঘুষের টাকা ঐ অফিসার সুজিত রায়, আব্দুর রশিদ এবং পিওন আব্দুর রহিম এর মধ্যে ভাগ বন্টন হয়।
এ বিষয়ে সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার আব্দুর রশিদকে মুঠোফোনে অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেন।
এদিকে, অফিস সহকারী ও কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষিক সুজিত রায়ের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনিও তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেন।
খুলনা জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস হতে দূরবর্তী সাধারণ ভূমি মালিকগণ একদিকে পথের দুরত্ব, অপরদিকে নানান হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে চায়।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ যৌথবাহিনীর সুদৃষ্টি কামনা করছে মৌজার সাধারণ ভূমি মালিকগণ।